বাইডেন আমলের ‘অটোপেন’ স্বাক্ষরিত সব নির্দেশ বাতিল ঘোষণা ট্রাম্পের

সংগৃহীত ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক : সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলের ৯২ শতাংশ নির্দেশ এবং নথি বাতিল ঘোষণা করলেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি জানিয়েছেন, বাইডেনের আমলে যত নথি স্বয়ংক্রিয় কলমের (অটোপেন) দ্বারা স্বাক্ষর করা হয়েছিল, সেগুলো বাতিল করা হচ্ছে। এখন থেকে আর সেই সমস্ত নির্দেশিকা বা নথির কোনও গুরুত্ব থাকবে না। তার অভিযোগ, বাইডেনের আমলে অটোপেনের নিয়ম ঠিকমতো মানা হয়নি।

ট্রাম্প শুক্রবার (স্থানীয় সময়) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘বাইডেন অটোপেন দিয়ে যে সমস্ত নথি স্বাক্ষর করেছেন, তা বাতিল করা হচ্ছে। তা আর কার্যকর হবে না। মোট স্বাক্ষরিত নথির ৯২ শতাংশেই অটোপেন ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রেসিডেন্টের অনুমোদন না থাকলে অটোপেন ব্যবহার করা যায় না।”

২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন বাইডেন। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, এই চার বছরে তিনি যত নির্দেশে সরাসরি স্বাক্ষর করেননি, তা বাতিল বলে ধরে নেওয়া হবে।

ট্রাম্পের দাবি, বাইডেন প্রশাসনে থাকাকালীন যে কর্মকর্তারা এই অটোপেন ব্যবহার করেছেন, তারা আইন মানেননি। অটোপেনে স্বাক্ষরের প্রক্রিয়ায় বাইডেন জড়িত ছিলেন না। তার অজ্ঞাতেই অনেক নথিতে স্বাক্ষর করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘যদি বাইডেন বলতে চান তিনি অটোপেন স্বাক্ষর প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন, তবে তার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন- তৃতীয় বিশ্বের সমস্ত দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই ঘোষণার পোস্টেও বাইডেনের অটোপেনের প্রসঙ্গ টেনেছিলেন তিনি। কিন্তু কী এই অটোপেন? কেন বারবার তা নিয়ে সুর চড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

বস্তুত, অটোপেন হল একটি স্বয়ংক্রিয় স্বাক্ষরকারী যন্ত্র যা বহু বছর ধরে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতরে ব্যবহার হয়ে আসছে। এই রোবটিক যন্ত্র প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর নকল করে। আসল পেনের কালিই এতে ব্যবহৃত হয়। অনেক সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে গুচ্ছ গুচ্ছ নথি স্বাক্ষর করতে হয়। একসঙ্গে এত নথিতে স্বাক্ষর করা একজনের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই যন্ত্রের সাহায্যে কাজ সহজ করার জন্য অটোপেনের চল রয়েছে হোয়াইট হাউসে। বাইডেনের সেই অটোপেনের স্বাক্ষরগুলোকে এবার বাতিল করলেন ট্রাম্প।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প চাইলে অটোপেনে স্বাক্ষরিত বাইডেনের সব নির্বাহী আদেশ বা এক্সিকিউটিভ অর্ডার বাতিল করতে পারেন। তবে কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনও বিল (আইন) তিনি বাতিল করতে পারবেন না, সেটি অটোপেনে স্বাক্ষরিত হোক বা হাতে। একই সঙ্গে, ক্ষমামঞ্জুরি (পার্ডন) তিনি বাতিল করতে পারবেন না, কারণ, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের দেওয়া ক্ষমামঞ্জুরি স্থায়ী। সূত্র: আল-জাজিরাওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» সোনার ভরি ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ছাড়াল

» খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর প্রতি দোয়ার আহ্বান হেফাজত আমীরের

» সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশানুরূপ পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি সরকার: জামায়াত

» গণভোটে দেশের মানুষকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান সাকির

» ইন্টারপোল সম্মেলন শেষে দেশে ফিরলেন আইজিপি

» শিক্ষাকেন্দ্রে রাজনৈতিক কলুষতা আনার কোনো মানে হয় না: শিক্ষা উপদেষ্টা

» এনজিওর অনুদান আইন সহজ করল সরকার

» তারেক রহমানের দেশে ফেরার ব্যাপারে সরকারের কোনো বিধি নিষেধ-আপত্তি নেই: প্রেস সচিব

» খেলাপি ঋণ সংকট কাটিয়ে উঠতে ১০ বছর লাগবে : গভর্নর

» নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: নাহিদ ইসলাম

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: ই-মেইল : [email protected],

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

বাইডেন আমলের ‘অটোপেন’ স্বাক্ষরিত সব নির্দেশ বাতিল ঘোষণা ট্রাম্পের

সংগৃহীত ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক : সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলের ৯২ শতাংশ নির্দেশ এবং নথি বাতিল ঘোষণা করলেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি জানিয়েছেন, বাইডেনের আমলে যত নথি স্বয়ংক্রিয় কলমের (অটোপেন) দ্বারা স্বাক্ষর করা হয়েছিল, সেগুলো বাতিল করা হচ্ছে। এখন থেকে আর সেই সমস্ত নির্দেশিকা বা নথির কোনও গুরুত্ব থাকবে না। তার অভিযোগ, বাইডেনের আমলে অটোপেনের নিয়ম ঠিকমতো মানা হয়নি।

ট্রাম্প শুক্রবার (স্থানীয় সময়) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘বাইডেন অটোপেন দিয়ে যে সমস্ত নথি স্বাক্ষর করেছেন, তা বাতিল করা হচ্ছে। তা আর কার্যকর হবে না। মোট স্বাক্ষরিত নথির ৯২ শতাংশেই অটোপেন ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রেসিডেন্টের অনুমোদন না থাকলে অটোপেন ব্যবহার করা যায় না।”

২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন বাইডেন। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, এই চার বছরে তিনি যত নির্দেশে সরাসরি স্বাক্ষর করেননি, তা বাতিল বলে ধরে নেওয়া হবে।

ট্রাম্পের দাবি, বাইডেন প্রশাসনে থাকাকালীন যে কর্মকর্তারা এই অটোপেন ব্যবহার করেছেন, তারা আইন মানেননি। অটোপেনে স্বাক্ষরের প্রক্রিয়ায় বাইডেন জড়িত ছিলেন না। তার অজ্ঞাতেই অনেক নথিতে স্বাক্ষর করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘যদি বাইডেন বলতে চান তিনি অটোপেন স্বাক্ষর প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন, তবে তার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন- তৃতীয় বিশ্বের সমস্ত দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই ঘোষণার পোস্টেও বাইডেনের অটোপেনের প্রসঙ্গ টেনেছিলেন তিনি। কিন্তু কী এই অটোপেন? কেন বারবার তা নিয়ে সুর চড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

বস্তুত, অটোপেন হল একটি স্বয়ংক্রিয় স্বাক্ষরকারী যন্ত্র যা বহু বছর ধরে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতরে ব্যবহার হয়ে আসছে। এই রোবটিক যন্ত্র প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর নকল করে। আসল পেনের কালিই এতে ব্যবহৃত হয়। অনেক সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে গুচ্ছ গুচ্ছ নথি স্বাক্ষর করতে হয়। একসঙ্গে এত নথিতে স্বাক্ষর করা একজনের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই যন্ত্রের সাহায্যে কাজ সহজ করার জন্য অটোপেনের চল রয়েছে হোয়াইট হাউসে। বাইডেনের সেই অটোপেনের স্বাক্ষরগুলোকে এবার বাতিল করলেন ট্রাম্প।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প চাইলে অটোপেনে স্বাক্ষরিত বাইডেনের সব নির্বাহী আদেশ বা এক্সিকিউটিভ অর্ডার বাতিল করতে পারেন। তবে কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনও বিল (আইন) তিনি বাতিল করতে পারবেন না, সেটি অটোপেনে স্বাক্ষরিত হোক বা হাতে। একই সঙ্গে, ক্ষমামঞ্জুরি (পার্ডন) তিনি বাতিল করতে পারবেন না, কারণ, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের দেওয়া ক্ষমামঞ্জুরি স্থায়ী। সূত্র: আল-জাজিরাওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: ই-মেইল : [email protected],

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com